ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে তার নিজ জেলা ঝালকাঠিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে ছাত্র-জনতা।

রোববার (২১ ডিসেম্বর) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে ঝালকাঠি শহরের কলেজমোড় এলাকায় জড়ো হন আন্দোলনকারীরা। পরে বরিশাল-খুলনা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করলে সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রী ও চালকেরা। অবরোধে অংশ নেওয়া ঝালকাঠি গণঅধিকার পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান সাগর অভিযোগ করে বলেন, ভারতীয় আগ্রাসন ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণেই শরীফ ওসমান হাদিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মূল হোতাদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে। তিনি বলেন, “আমাদের ভাইয়ের হত্যার বিচার না পাওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে। প্রয়োজনে জীবন দিতেও আমরা প্রস্তুত।” বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঝালকাঠি জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াসিন ফেরদৌস ইফতি বলেন, যারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তাদের এখনো আইনের আওতায় আনা হয়নি। সরকারের নিষ্ক্রিয়তায় সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
একই সংগঠনের জেলা সদস্য সচিব রাইয়ান বিন কামাল বলেন, হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলন চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেউ এখনো আন্দোলনকারীদের দাবির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলতে আসেনি। তিনি জানান, “পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে না এলে আমরা অবরোধ প্রত্যাহার করবো না।” এ বিষয়ে ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, অবরোধ শুরুর পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে এবং আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে ঝালকাঠির পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ না করায় তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
Leave a Reply