শেখ মোহাম্মদ ইকবাল-
গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহের মধ্যেই গোপালগঞ্জ জেলাজুড়ে লোডশেডিংয়ের মাত্রা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। স্থানীয় বিদ্যুৎ বণ্টন বিভাগ (ওজোপাডিকো) সূত্রে জানা গেছে, চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি অনেক কম হওয়ায় বাধ্য হয়েই এলাকাভিত্তিক রুটিন করে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
ঘন ঘন এই বিদ্যুৎ বিভ্রাটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
ওজোপাডিকোর গোপালগঞ্জ কার্যালয়ের এক সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চাহিদার তুলনায় থোক বরাদ্দ কম থাকায় পৌর এলাকাসহ পুরো জেলাতেই এই লোডশেডিং কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। যেহেতু জাতীয় গ্রিড উপকেন্দ্রের নির্দেশনা এবং দৈনিক চাহিদার ওপর ভিত্তি করে বিদ্যুৎ সরবরাহ নির্ধারিত হয়, তাই লোডশেডিংয়ের সময়কাল ও স্থায়িত্ব পরিস্থিতিভেদে পরিবর্তনশীল।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সর্বশেষ (১৬ ই জুন) দুপুরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গোপালগঞ্জ জেলায় মোট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ৭৮ মেগাওয়াট। তবে এর বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩৭ মেগাওয়াট। ফলে দৈনিক ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪১ মেগাওয়াট, যা মোট চাহিদার প্রায় ৫২.৫৬ শতাংশ। এই বিশাল ঘাটতি সমন্বয় করতে চইখ-২ এবং চইখ-৩ এর বিভিন্ন ফিডারেও দফায় দফায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
এদিকে তীব্র বিদ্যুৎ সংকটের কারণে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা নেমে এসেছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, দিনের মধ্যে একাধিকবার দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় উৎপাদন ও বেচাকেনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন পরীক্ষার্থী এবং হাসপাতালের রোগীরা।
বিদ্যুৎ বিভাগের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, জাতীয় গ্রিড থেকে বরাদ্দ বৃদ্ধি না পাওয়া পর্যন্ত এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছেন এবং এই সাময়িক সংকটে গ্রাহকদের বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার পাশাপাশি আন্তরিক সহযোগিতা কা
মনা করেছেন।
Leave a Reply