নিজস্ব প্রতিবেদক, আলমডাঙ্গা (চুয়াডাঙ্গা):
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা পৌরসভার টাউন লেভেল কো-অর্ডিনেশন (টিএলসি) সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসকের উপস্থিতিতে এক পৌর নাগরিককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত টিএলসি সভায় পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, আয়-ব্যয়ের হিসাব, নাগরিক সেবা এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছিল। সভার প্রশ্নোত্তর পর্বে পৌর নাগরিক মোল্লা ফারুক এলাহি ইসলাম বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য ও প্রশ্ন উত্থাপন করেন।
এ সময় সভায় উপস্থিত এক ব্যক্তির সঙ্গে তার তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, বাকবিতণ্ডার জেরে ওই নাগরিককে সভার মধ্যেই শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধর করা হয়।

ঘটনাটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক শাহীনুর আক্তারের উপস্থিতিতেই ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ঘটনার সময় তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি, যা নিয়ে জনমনে ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, পৌরসভার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, প্রকল্প বাস্তবায়ন, আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা প্রশ্ন ও অসন্তোষ রয়েছে। টিএলসি সভায় এসব বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপনের পর এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার অভিযোগ আরও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আবার কেউ কেউ বলছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক শাহীনুর পরোক্ষ উস্কানিতে এমন ঘটনা ঘটতে পারে।
অভিযোগকারী পক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার অডিও রেকর্ড, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত তাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। তারা দাবি করেছেন, নিরপেক্ষ তদন্ত হলে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে।
তবে অভিযোগের পক্ষে উত্থাপিত এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক শাহীনুর আক্তারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
একইভাবে অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্যও সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে, একটি সরকারি সমন্বয় সভায় এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
তারা মনে করেন, প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে জনমনে সৃষ্ট বিভ্রান্তি দূর হবে এবং প্রশাসনের প্রতি আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।
প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।
Leave a Reply