ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানের মুখে পালিয়ে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই ভারতে পৌঁছান আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের একনায়ক হাসিনা! ৫ আগস্টের সেই পলায়নের কোনো ভিডিও ছিলো না মিডিয়ার কাছেও।
তবে, দূর থেকে ধারণ করা শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও প্রথম প্রকাশ করেন বিমান বাহিনীর ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি। ঐতিহাসিক ওই ভিডিও প্রকাশের কারণে তাহসিফ যেমন সারাদেশের মানুষের দোয়া পেয়েছেন, তেমনই তার ওপর ক্ষোভ ছিলো পলাতক দল আওয়ামী লীগের।
জানা যায়, ৫ আগস্টের পরপরই স্বেচ্ছায় অবসর নিয়েছিলেন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি। গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) থেকে তাহসিফকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলো না।
এর পরের দিন বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকালের দিকে তুরাগ নদীর ঘাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।
বিমানবাহিনীর সাবেক এই কর্মকর্তার মরদেহ বুধবার বিকেলে উদ্ধার হলেও সেটি প্রকাশ্যে আসে দিবাগত মধ্যরাতে। এমনকি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হতে শুরু করে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে। শেখ হাসিনার পালানোর ভিডিও শেয়ার করার কারণেই তার মৃত্যু নিয়ে ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে!
একে তো রহস্যজনক মৃত্যু, তার ওপর সেটি সময়মতো প্রকাশ না হওয়া! একেবারেই ভালো লক্ষণ না ব্যাপারগুলো। এখন এটা কি আত্মহ*ত্যা, ব্যক্তিগত/পারিবারিক দ্বন্দ থেকে ঘটানো কোনো ঘটনা, নাকি সেই ভিডিও প্রকাশের জেরেই হ*ত্যাকাণ্ড সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন!
শতভাগ নিশ্চিত না হলেও, এটা সেই ভিডিওর সঙ্গে সম্পৃক্ত হ*ত্যাকাণ্ড হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি! ডিসেম্বর ঘিরে যে নাশকতার ছক আঁকা হচ্ছে তারও অংশ হয়ে থাকতে পারে এটি। আইনশৃঙ্খলার চূড়ান্ত ভঙ্গুর পরিস্থিতির সুযোগে এমন হ*ত্যাকাণ্ড মূলত অশনিসংকেত!
এরপরও যদি প্রশাসনের টনক না নড়ে সামনের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে! তবে প্রশাসনের ভূমিকার আশায় বসে থাকলে চলবে না। জুলাইয়ের মতো আবারও সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিতে হবে। নতুবা এর খেসারত দিতে হতে পারে দলমত নির্বিশেষে সবাইকেই!
Leave a Reply