রুহুল আমিন ।
বিশেষ প্রতিনিধি ঢাকা।
সূত্রঃ দারুস সালাম থানার মামলা নং-৩২, তারিখঃ ২৭/০৮/২০২৬ খ্রিঃ, ধারা-৪০৬/৪২০ পঃ বিঃ।
রাজধানীর দারুস সালাম থানাধীন এলাকায় এক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার নিকট হতে সচিব পরিচয়ে প্রতারনার মাধ্যমে ৩০,০০,০০০/-(ত্রিশ লক্ষ) টাকা আত্মসাতের ঘটনায় দীর্ঘদিন ধরে প্রতারনা করা চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই ঢাকা মেট্রো ইত্তর।
বাদী/ভিকটিম-অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মুহাম্মদ ফারুক হোসেন (৪৭), বাসা নং-১৩১/১/এ, ড্রিম গার্ডেন বাগান বাড়ী, পোষ্ট-সেনা নিবাস, উত্তর ভাষানটেক, ঢাকা, মোবাইলঃ ০১৭১৬-৪৪১৪৭৬ঘটনার বর্ণনা- সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট ফারুক হোসেন জমির শেয়ার বিক্রির জন্য বিজ্ঞাপন দেন।
বিজ্ঞাপন দেখে আসামী সাইফুল (ছদ্মনাম) সচিব স্যারের জন্য জমি ক্রয়ের মধ্যস্থ হিসাবে যোগাযোগ করে। বাদী তার কাছে জমি বিক্রয়ের ইচ্ছা প্রকাশ করলে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী বাদীকে প্রতারনার ফাঁদে ফেলতে আসামী সাইফুল (ছদ্মনাম) একজন সচিব স্যার ১ নং আসামী মো: সাহাবুদ্দীন হাওলাদার খলিলুর রহকমান মিজানুর রহমান (ছদ্মনাম)-এর কাছে জমি বিক্রয় করিয়ে দেয়ার আশ্বাস দেন। পরে, ০৭/১২/২০২৫ খ্রিঃ তারিখে আসামী সাইফুল (ছদ্মনাম) বাদীকে ধানমন্ডিতে নিয়ে একটি অভিজাত বাসভবন থেকে আধুনিক গাড়ী নিয়ে বের হওয়া সচিব স্যারের সাথে পরিচয় করায়।
সচিব স্যার জানান তিনি যেহেতু সচিব সরাসরি জমি কিনতে তার সমস্যা। তাই বাদী/ভিকটিমের জমি ছাড়াও সাভারের বিলামালিয়া মৌজার ৫৮ শতাংশ জমি কিনে দেয়ার জন্য বলে। টাকা যা লাগে সচিব স্যার দিবেন। এমনকি বাদীর সামনেই নকল সচিব স্যার মধ্যস্থকারী সাইফুল (ছদ্মনাম) কে নগদ ১,০০,০০০/-(এক লক্ষ) টাকা অগ্রীম প্রদান করে। পরে আসামী সাইফুল বুঝায় সাভারের ঐ জমির মালিক সে চিনে এবং সে ঐ জমি বিক্রিও করতে চায়।
নকল সচিব স্যারকে জমিটা কিনে দিলে নগদ ১ কোটি টাকা লাভ পাবে। ক্রেতা সচিব স্যার নগদ টাকা এ্যাডভান্স দিয়েছে টাকার অভাবে নেই। জমি বিক্রেতাও প্রস্তুত। এসব বুঝিয়ে বাদীকে প্রতারনার ফাঁদে ফেলে। আসামী সাইফুল বাদীর সামনেই জমির কল্পিত সাজানো মালিককে ফোন দিয়ে দেখা করার জন্য অনুরোধ করে। সাভারের বিলামালিয়া মৌজার ৫৮ শতাংশ জমি কেনার জন্য কথা বলতে চান। জমির নকল/কল্পিত মালিক বলেন আমার শ্বাশুরী অসুস্থ্য আমি ডেল্টা হাসপাতালে দেখা করতে পারবে না। আসামী সাইফুল অনেক বুঝিয়ে তাকে অল্প সময়ের জন্য ডেল্টা হাসপাতালের সামনে দেখা করতে রাজি করায় এবং ডেল্টা হাসপাতালের সামনে নকল জমি মালিক আসামী জাহাঙ্গীরের (ছদ্মনাম) সাথে বাদীকে পরিচয় করায় আসামী সাইফুল (ছদ্মনাম)। সেখানে জমি বেচাকেনার কথা হয়। জমির কল্পিত মালিক জমি বিক্রয় করতে রাজি হয়। ৬,৯৫,০০,০০০/- (ছয় কোটি পচানব্বই লক্ষ) টাকা দাম ধার্য্য হয়। সচিব স্যারকে কিনে দিয়ে ১ কোটি টাকা নগদ লাভ করার জন্য বাদী ১০,০০,০০০/- (দশ লক্ষ) টাকা বায়না দিতে রাজি হয়। আসামীদের চাতুর্থপূর্ন কথায় বাদী ব্যাংক থেকে ও বাসা থেকে মোট ১০ লক্ষ টাকা এনে আসামী সাইফুল (ছদ্মনাম) এর মাধ্যমে জমির কল্পিত মালিক আসামী জাহাঙ্গীরকে প্রদান করেন। পরে কল্পিত কোন এক উকিলের মাধ্যমে ৩০০/- (তিনশত) টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে বায়না নামা করে বাদীর স্বাক্ষর নেয়া হয় এবং তাকে ফটোকপি দেওয়া হয়।
পরের দিন নকল সচিব স্যার বায়নার মূল কপি চায়। বাদী জমির নকল মালিককে বায়নার মূল কপি চাইলে এত দামী জমির মূল বায়নাপত্র ১ম দেয়া মাত্র ১০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে দিতে অস্বীকার করে। আরো ২০ লক্ষ টাকা দাবী করে।
পরে বাদী সচিব স্যারকে জমি দিতে আরো ২০ লক্ষ টাকা নকল মালিককে প্রদান করে কল্পিত জমির মূল বায়না ষ্ট্যাম্প গ্রহণ করেন। টাকা গ্রহনের পরেই সবাই গাঁ ঢাকা দেয়। প্রতারিত বাদী নানান চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর) অফিসে এলে অতিঃ ডিআইজি মোঃ এনায়েত হোসেন মান্নান-এর নেতৃত্বে উপ পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) উজ্জল ঘোষ সহ ১ টি চৌকস টিম ছায়া তদন্ত শুরু করে ও নানান তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে বাদীকে সহায়তা করে। বাদী ডিএমপি দারুস সালাম থানার মামলা নং-৩২, তারিখ-২৭/০৮/২০২৬ খ্রিঃ, ধারা-৪২০/৪০৬ দঃ বিঃ রুজু করেন। জনগুরুত্ব বিবেচনায় মামলাটি পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তর মামলাটি স্ব-উদ্যোগে গ্রহণ করে।
তদন্তকারী কর্মকর্তা উজ্জল ঘোষসহ ১ টি চৌকস আভিযানিক দল দীর্ঘ সময় ধরে ঢাকার দারুস সালাম, পল্লবী ও মিরপুর সহ বিভিন্ন জায়গায় পর-পর অনেকগুলি অভিযান চালিয়ে প্রথমে আসামী কল্পিত জমির মালিক জাহাঙ্গীর আলম (ছদ্মনাম) (সুমন (৩৯) কে গ্রেফতার করে এবং ঐদিনই তার দেখানো মতে শাহআলী থানা এলাকায় অভিযান করে কথিত জমির দালাল সাইফুল ইসলাম (ছদ্মনাম) জাহাঙ্গীর আলম কে গ্রেফতার করা হয়।
নকল সচিব সহ ৩ জনেই বিজ্ঞ আদালতে নিজেদের সম্পৃক্ত করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলে জবানন্দী প্রদান করেছে এবং পরস্পর যোগসাজশে পূর্ব পরিকল্পিত প্রতারনা ও ৩০,০০,০০০/-(ত্রিশ লক্ষ) টাকা ভাগ করে নেয়ার কথা স্বীকার করেছে।
প্রতিটি ধাপেই প্রতারনা ও নাকটঃ- নকল সচিব স্যার-গলায় মোটা স্বর্ণের চেইন। চোখে কালো চশমা। দামী গাড়ী। ধানমন্ডির এক অভিজাত বাড়ী থেকে বের হয়। মুল ঘটনার পূর্বে একটি অভিযাত বাড়ীতে বিভিন্ন অজুহাতে ঢুকে যেমন ওয়াশরুমে যাওয়া বা ভাড়া প্রসঙ্গে কথা বলে বের হয় এবং তার বের হওয়া দেখে ভুক্তভোগী মনে করে এটাই তার আসল বাড়ী। নকল কল্পিত জমির মালিক- সে তার বাসা চিনাবে না তাই ডেল্টা হাসপাতালের কথা বলে। জমি বিক্রি করবে টাকা দরকার কারণ শ্বাশুরী গুরুতর অসুস্থ জমির কোন হদিস নেই। ভূয়া ষ্ট্যাম্প তৈরীর অভিনয় করে ও ভূয়া উকিলের কথা বলে বায়নার জন্য চাপ সৃষ্টি ও ঘটনার পরে ফোন ফেলে দেয়া সবই নাটকের অংশ।
গ্রেফতারকৃত ও ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়া আসামীগণ-
১) সচিব পরিচয়ে মোঃ সাহাবুদ্দিন হাওলাদার (২) খলিলুর রহমান (ছদ্দনাম মিজানুর রহমান) (৪৭), পিতা-মৃত আঃ খালেক হাওলাদার, মাতা-মৃত ফরিদা বেগম, সাং-রমজানপুর, ১নং ওয়ার্ড, রমজানপুর ইউপি, থানা-কালকিনি, জেলা-মাদারীপুরা, এ/পি-বাসা নং-৩৪, রোড নং-০২, সেকশন-১৩, মিরপুর, ঢাকা।
২) কল্পিত জমির মালিক সুমন আহমেদ (এজাহারে বর্ণিত ছদ্দ
Leave a Reply