অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম. সাখাওয়াত হোসেন, সাবেক উপদেষ্টা, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের রাষ্ট্রদূত মাননীয় জনাব জালিল রাহিমি জাহানাবাদি।

এছাড়া অনুষ্ঠানে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন জনাব সাইয়্যেদ রেজা মীরমোহাম্মদী, কালচারাল কাউন্সেলর, ইরান দূতাবাস, ঢাকা, মাওলানা রুহুল আমিন, খতিব, ইস্টার্নপ্লাস জামে মসজিদ, ঢাকা, অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার, ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং জনাব সারওয়ার তুষার, লেখক (ফিলিস্কিন মুক্তি বিষয়ক গ্রন্থ) ও রাজনীতিবিদ।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. মোহাম্মদ রাশেদ আলম ভূইয়া, সহযোগী অধ্যাপক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করেন অ্যাডভোকেট এ. কে. এম. বদরুদ্দোজা, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট। সভায় সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ড. শাহ কাওসার মোস্তফা আবুলউলায়ী, চেয়ারম্যান, দর্শন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং সভাপতি, আল-কুদস কমিটি বাংলাদেশ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ইরানের রাহবার হযরত ইমাম খামেনেয়ি শহীদ হবার পরে মুসলিম জাতি শোকাহত । ইরানের মানুষ তাদের জীবন নিয়ে ভয় পায়না ।
তারা ভীতু নয় । ইরানের ভূখণ্ডে এত বোমা বর্ষণের পরেও ইরানের মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছেন । তারা ইরানকে সমর্থন জানিয়ে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে । ইসরাইল আমেরিকা যে যুদ্ধ এখন করছে এইখান থেকে ইসরাইল ও আমেরিকার পাবার কিছুই নেয় । কারন ইরানি জাতিকে নিঃশেষ করে দেয়া এত সহজ কোন কাজ না। ইরানি জাতি তাদের রাহবারের আদর্শ নিজেদের মাঝে ধারন করে । এই যুদ্ধে রাহবার ইমাম খামেনেয়ি চাইলেই নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে পারতেন তবে তিনি সেটা করেন নি, আর এই ত্যাগই ইরানি মানুষকে আরও বেশি মানসিকভাবে শক্তিশালী করেছে ।
মুসলমানরা যুগে যুগে কালে কালে নির্যাতন সহ্য করে এসেছে । কত ত্যাগ স্বীকার করেছেন কিন্তু ইতিহাস ঘেঁটে দেখলে দেখা যাবে যে মুসলমানরা কখনও ভিন্ন ধর্মী , ভিন্ন মতাদর্শের কারো উপর যুলুম করেনি । উল্টো ইসলাম ধর্মের সাথে থাকার ফলে সবসময় জুলুমের শিকার হতে হয়েছে । অথছ ইসরাইল ও আমেরিকা হাজার হাজার মানুষ হত্যা করছে যেটা আপনারা নিজেরায় দেখতে পাচ্ছেন ।
আমরা মুসলিমরা বিভক্ত হয়ে গেছি । আমাদের নামের সাথে শিয়া সুন্নি মাযহাব যোগ করে দিয়ে আমাদের নিজেদের মাঝে বিভাজন সৃষ্টি করেছি । মূলত আমরা মুসলমান, আর এইটাই আমাদের আসল পরিচয় । আমরা দিন শেষে মুসলমানদের পাশে থাকব এইটাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হওয়া উচিত ।
আল কুদস দিবসের কথা স্মরণ করতেন গিয়ে বক্তারা বলেন যে, আল কুদস দিবস শুধুমাত্র ফিলিস্তিনের নয়, আল কুদস পুরো মুসলিম উম্মাহর। আমরা মুসলমানরা একে অপরের ভাই ভাই, আমরা মাযহাব গত ভাবে বিভক্ত না হয়ে সকল মুসলিম এক হয়ে যালিমদের বিপক্ষে শক্ত অবস্থান নিব ইনশাআল্লাহ্, এবং সকল যুলুমের বিপক্ষে গিয়ে মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ সাধন করব ।
Leave a Reply